Friday, October 16, 2015

কার্তিক আর মা --এম কে সাগর ।

কার্তিক আর মা 
এমকে সাগর 
..............................................................
মা গো আজও মন কেন ভার
এসেছে কার্তিক 
আর তো কয়েক দিন মাত্র, 
সবুজ সবুজ ধান সোলালি হয়েছে। 
আমাদের বাড়িতে আসার 
বেতাল গান ধরেছে
রৌদ্র বাতাসের তালে তালে। 
ভরা ধান ক্ষেতে উড়ছে কত শত, 
প্রজাপতি আর ঘাস ফড়িং
বৃষ্টি জল থেমে গেছে 
হয়তো আর আকাশের মন হবে না

খারাপ! তার মনে কালো মনে জুমবে না 
কালো মেঘ, 
হয়তো আর হবে বৃষ্টি। 
মা কিছু বলল না গো তুমি
তুমি কেন চুপ? তুমি চুপ থাকলে
বুঝি আমার কষ্ট হয় না, 
মন বুঝি কাঁদে না! 
আমার মনের জলে বুক ভেজে না
বৃষ্টি বুঝি হয় না 
আমার মনের আঙ্গিনা জুড়ে। 
মা গো দেখো না 
বাড়ির লাল মোগর বাঁকছে 
এই সুন্দর দুপুরে ভরা রৌদ্রে 
কত না মধুর সুরে, 
এই কার্তিকে । 
মা গো আমার অনেক কান্না পায়, 
তুমি যদি চুপ থাকলে। 
আমাদের বাড়ির ওঠান
ভরে যাবে নতুন নতুন ধানে
মৌ মৌ গন্ধে চারিদিক ভরে যাবে। 
মা তুমি আজ ভাবছো নাকি 
ভাইটিকে আমার, 
সে সেই ভাই কবে? গিয়েছে মুক্তি যোন্ধ করতে
আজ থেকে বহুদিন বহু বছর আগে
আজও এখনো আসেনি ফিরে, 
হয়তো কোন দিন আর ফিরে আসবে না, 
লাল সবুজের পতাকা হাতে ধরে, 
তবুও শান্তি আমার পেয়েছি স্বাধীন 
এক দেশ। যেথায় আমি আপন মনে হাসতে পারি, গাইতে পারি 
আমি আপন মনে লেখতে পারি, 
ইচ্ছা হলে নাচতে পারি
কষ্ট পেলে কাঁদতে পারি
আরোও পারি কবিতা লেখতে কেউ আর 
পারে না হাতের কলম কেড়ে নিতে। 
মা মাঝে বলে আমায় 
চুপ কর খোকা 
দেখছি না তোর ভাই জানের 
লাল সবুজের পতাকা 
হাতে বাড়ি ফিরে আসার সময় হয়েছে 
আমার খোকা ঘরে ফিরে 
আজ বা কাল কিংবা পরসু। 
তোর মায়ের জন্য লাল সবুজের 
নতুন একটি উড়ে। 
এই কার্তিকেই নতুন ধানের গন্ধে 
আসলেই হবে নবান্ন উৎসব। 
বাড়ির চালের, চাল কুমড়া দিয়ে 
বাড়ির লাল মোরগের মাংস দিয়ে, 
রাধবে মা তরকারী, 
সাথে রাধবে খেজুর গুড় দিয়ে 
নতুন চালের খির। 
প্রতি দিন মা ছুটে যায় নদীর কাছে
কাশবনের ফাঁকে তার খোকাকে খুজতে
মা হয়তো ভাবে অভিমানি পাগল
ছেলে লুকি আছে ওখানে চুপ করে। 
রেল লাইলে ধারে হাত বাড়িয়ে 
মা তার বুকের ধন মানিক রতন, 
নাড়ি কাটা ছেলেকে ডাকে মনে মনে, 
চোখের তারাতে স্বপ্ন বুনে 
তার খোকা আসবে ফিরে, 
এই কার্তিকে। 
০১ কার্তিক ১৪২২ 
জিয়ানগর, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

No comments:

Post a Comment