জীবনঘাতী করোনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারা পৃথিবী। প্রায় সমগ্র বিশ্বে এখন অঘোষিত অবরোধ চলছে। সব মানুষ অাতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ঘরে বন্দি। এর অভিঘাতে সৃষ্টি হচ্ছে বিপুল সংখ্যক কর্মহীন মানুষ , উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা বিরাজ করছে, বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা জাতীয় প্রবৃদ্ধি।
ইতোমধ্যে বিশ্বের বড় বড় অর্থবোদ্ধাগণ নড়েচড়ে বসেছেন নূতন হিসাব কষতে। করোনার ভয়াবহতা এত ব্যাপক যে এ নিয়ে কেহই এর সঠিক ব্যাপ্তিক ও বহুমাত্রিক পরিস্থিতির পরিমাণ নির্ণয়ে সক্ষম হচ্ছেন না। তবে এটি নিশ্চিত যে করোনা পরবর্তী বিশ্বে বিপুল বেকারত্ত্ব, চরম দারিদ্র্য, অসুস্থতা ফলে সৃষ্ট নানা রকম জটিল সমস্যা মোকাবেলায় বিশ্বকে মোটামুটি হিমশিম খেতে হবে। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হয়তো বিশ্বকে অারো কয়েক বছর সময় ব্যয় করতে হবে ।
ধারনা করা হচ্ছে বিশ্বে অতি গরীব জন বহুল দেশ সমুহ বিপুল সংখ্যক মানুষ হারাবে তাদের খাদ্য ঘাটতির দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় সক্ষমতা না থাকার কারণে।
প্রসঙ্গ করোনা পরবর্তী দেশের এনজিও দের কার্যক্রম এর উপর কি প্রভাব হবে?
যে কোন বিপদ থেকে শুধু যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহা নহে, সমস্যা থেকে অপার সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশে দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা খাতে সেবার ঘাটতি পুরনে সহায়তা কাজের মধ্য দিয়ে যেমন এনজিও এর কার্যক্রমের শুরু হয়েছে ঠিক তেমনি করোনার কারণে সৃষ্ট সমস্যা থেকে নুতন কার্যক্রমের সম্ভবাবনাও সৃষ্টি হয়তো হবে ইনশাল্লাহ। উদ্ভাবিত হতে পারে নূতন নূতন বিষয়ে নিয়ে মানুষের মাঝে কাজ করার নানান রকম সুযোগ।
সাম্প্রতিক কালে অর্থদাতা সংস্থা সমুহের বিশ্বের অন্যান্য দরিদ্র দেশের দিকে ধাবিত হওয়ায় একদিকে যেমন এনজিও কার্যক্রম কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়ে অাসছিলো ঠিক তেমনি করোনা পরবর্তী অাবার নূতন কাজের সুযোগ বা সম্ভাবনাও সৃষ্টি হতেই পারে।
তবে দেশ যেহেতু কৃষি ও শিল্প রেমিটেন্স খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতিয় প্রবৃদ্ধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধির মাধ্যমে এশিয়ার মধ্যে ঐর্শ্বনীয় পর্যায়ে ধরে রাখলেও বর্তমান সৃষ্ট দূর্যোগ করোনার কারণে কিছুটা হলেও নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট অর্থাৎ ঋণাত্মক অভিঘাতের অাচর লাগার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয় যায় না। অাশার কথা দেশে গার্মেন্টস গুলো স্বাস্থ্য বিধি মেনে ইতোমধ্যে কাজ শুরুর প্রক্রিযা অব্যাহত রেখেছে। ব্যাংক গুলো খোলা রাখা সহ লেনদেন সময় বাড়ানো হয়েছে।
দেশের চালিকা শক্তি কৃষি ও কৃষি ভিত্তিক সকল খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য ব্যাংক সমুহের পাশাপাশি এনজিও মাইক্রোফাইন্যান্স ইনষ্টিটিউট (এমএফ অাই) গুলিও বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসাবে বিনিয়োগ করে থাকে। যার একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হয় কৃষিজ উপকরণ, ফসল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাগত খাতে।
দেশে বৃহৎ কৃষি নির্ভর জনগোষ্ঠি এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সহায়তা নিয়ে বিনিয়োগ করে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রি করে নিজেদের অায় বৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম ঋণের অর্থ পরিশোধ ও স্বাবলম্বি হয়ে নিজ ভাগ্য উন্নয়নে সহায়তা করতে অগ্রনী ভুমিকা রাখছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে এখাতের অর্থ প্রবাহের বাঁধার সন্মুখিন হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে ফলে কৃষিজ উৎপাদন ব্যহত হতে পারে । ঘাটতি দেখা দিতে পারে এ খাতে নিয়োজিত লোক জনের কর্ম সৃজনের ব্যাপ্তিরও। তাই অতিদ্রুত সকল বাঁধাবিপত্তি অতিক্রম করে সবাইকে দৃঢ় মনবল ও ইস্পাত কঠিন সংকল্প নিয়ে এ পরিস্থিতি উত্তোরণের জন্য এগিয়ে অাসতে হবে যাহাতে সকলে মিলে সকল বাঁধা বিপত্তি দুরীভূত করে অামরা বিজয়ের মালা ছিনিয়ে অানতে পারি। যেটি সকলের জন্যই খুবই জরুরী এবং সেটি করার জন্য এখুনি প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে অাশার কথা হলো বাঙলার মানুষ যে কোন ঘোরতর বিপদের মধ্যেও সমস্যাকে সম্ভাবনায় রুপান্তর করে বিজয় ছিনিয়ে অানতে পারে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
ইতোমধ্যে রৌদ্রের খরতাপ বৃদ্ধির পাশা পাশি বৃষ্টি যেন খোদার অশেষ রহমত হিসাবে বর্ষিত হয়েছে। অাশা করা যায় করোনা অতিদ্রুত দেশ থেকে বিদায় নিবে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে অাসবে অার সামনে মধু মাস ( খরিপ ১) মৌসুমে কৃষক ব্যাপক অাশা ও অানন্দ নিয়ে নূতন অাঙ্গিকে কৃষি থেকে নূতন ফল ও ফসল ঘরে তুলবে। সকল ক্ষেত্রে তৈরি হবে নূতন কর্ম চাঞ্চল্যতা ।
এনজিও এমএফঅাই সমুহও তাদের কোটি কোটি সদস্যদেরকে নূতনভাবে কর্মপরিধি বৃদ্ধি ও নবতর সৃষ্টির সহায়তায় এগিয়ে অাসবে গ্রামে গঞ্জে শহরে। বাঙলা অাবার ফুলে ফলে ভরে উঠবে। মুখরিত হবে পাখির কলতানে।আবার জমবে মেলা,,,।
সুপ্তকূঁড়ি
(কবি,কলাম লেখক ও এনজিও কর্মী)


No comments:
Post a Comment