Monday, May 4, 2020

ক‌রোনা: এন‌জিও অর্থ ব্যবস্থাপনা ==== রফিকুল ইসলাম সরকার


দে‌শে মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটির উপ‌রে।
অর্থ লেন‌দে‌নের ক্ষেত্র ও বাজার হিসেবে বাংলা‌দেশএকটা সম্ভাবনাময় ও যথেষ্ট বড় বাজার। যা বি‌শ্বের অ‌নেক দে‌শেই নেই।

‌যে‌হেতু ক‌রোনা প‌রি‌স্থি‌তি‌তে সকল দে‌শের অর্থ, ব্যবসা, বা‌ণিজ্য স্থ‌বিরতা বিরাজ কর‌ছে, গার্মেন্টস খা‌তের অ‌ধিকাংশ অর্ডার বা‌তিল ও স্থ‌গিত করা হ‌য়ে‌ছে সে‌হেতু অামা‌দের এখন দরকার স্থানীয় বাজার ও উ‌দ্যোক্তা‌দের কে সুসংহত করা। এ সকল স্ব কর্ম সংস্থান কৃত  প্রতিষ্ঠানের কাচামাল সরবরাহ ও প‌রিবহন সুনি‌শ্চিত করা।

এ‌টি নি‌শ্চিত করা গে‌লে এক‌দি‌কে যেমন দেশীয় উ‌দ্যোক্তা‌দের তৈ‌রি প‌ণ্যের বাজার ও বি‌ক্রির ব্যবস্থা হ‌বে ‌তেম‌নি,এ খা‌তে নি‌য়ো‌জিত লো‌কবল পুন: কর্মসংস্থা‌নের পাশাপা‌শি দে‌শের অাভ্যান্তরীণ বাজার পুন:জাগরণ ঘট‌বে।

সব‌চে‌য়ে প্র‌য়োজন ‌দে‌শে স্ব-কর্ম সংস্থান কৃত  প্রতিষ্ঠান অা‌রো সৃষ্টি করা ও  নুতন পুরাতন উ‌দ্যোক্তা‌দের সহায়তা বৃ‌দ্ধির মাধ্য‌মে এর বিকাশ ধারা তরা‌ন্বিত করা ।

এ সকল  স্ব-কর্ম সংস্থান কৃত  প্রতিষ্ঠান যে‌হেতু আঞ্চলিক পর্যায়ে চাকরিরও সু‌যোগ তৈ‌রি ক‌রে সে‌হেতু দে‌শের স্বনির্ভর তার প্রধান হাতিয়ার এ সকল স্ব --কর্ম সংস্থান কৃত  প্রতিষ্ঠান এর  অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সরবরাহ নি‌শ্চিত করা।  পাশাপা‌শি এ সকল প্র‌তিষ্ঠান বৃ‌দ্ধি করার সু‌যোগও তৈ‌রি করা প্র‌য়োজন।

গ্রামীন/শহ‌রের অর্থনীতি চালু রাখ‌তে হ‌লে দরকার গ্রা‌মে গ‌ঞ্জের এ সকল অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সমুহ সচল রাখা । সেই  সা‌থে অা‌রো বে‌শি বে‌শি অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যপকভাবে গড়ে তোলার  জন্য সু‌যোগ ও সহায়তার জন্য প্র‌ণোদনা প্রদান করা।

 বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র । যাহার প্রায় ৬০ ভাগের বেশি প্রতিষ্ঠান অপ্রাতিষ্ঠা নিক। প্রথমেই  দরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় রাখা। এ‌দের চাহিদা ও সরবরাহ য‌দি ঠিক রাখা যায় তাহলে বহুলাংশে এসব ব্যবসা প্র‌তিষ্ঠান টিকে থাকবে।

সে ক্ষেত্রে দুই ধরনের পদক্ষেপ  নেয়া যে‌তে পা‌রে যেমন, স্বল্পমেয়াদি: যে সব ভোক্তার আয় কমেছে তাদের আয় ভর্তুকির মাধ্যমে চাহিদাকে ঠিক রাখা এবং সরবরাহের দিক থেকে অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উৎপাদন বজায় রাখা।

অার, দীর্ঘমেয়াদে: দে‌শের অথর্নী‌তি‌র ভিত্তি শক্ত করার জন্য অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

দেশের  অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বৃহৎ অংশ  মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতাধীন প্রায় সাত শত  এবং পি‌কেএস এফ এর প্রায় দুইশত এন‌জিও এমএফঅাই  পি‌কেএস এফ ও বৗাংক ও এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে সদস্য ও গ্রাহক‌দের মা‌ঝে বিতরণ ক‌রে থাকে।

 গত বছর এন‌জিও এমএফঅাই তা‌দের প্রায় আড়াই কোটি ঋণীর কাছে ঘূর্ণায়মান পদ্ধ‌তি‌তে প্রায় ১,৭৫,০০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে । যাদের প্রায় ২৫ ভাগ অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যারা প্র‌ত্যে‌ কে গড়ে স্ব- ক‌র্মের পাশাপাশি প্রায় দু'জন লোকের চাকরি সৃষ্টি করেছে। এভা‌বে প্রায় এক কোটির ওপর কর্মসংস্থান সৃষ্টিহ‌য়ে‌ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘো‌ষিত বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের মাধ্য‌মে ৩০০০কো‌টি টাকার ঋণ সহায়তা ঘোষনা করা হ‌য়ে‌ছে যার প্রায় ৬০% ক্ষদ্র ঋ‌ণে ও অব‌শিষ্ঠ ৪০% টাকা উ‌দ্যোক্তা উন্ন য়ন ও সহায়তা খা‌তে ব্যবহৃত হ‌বে।

অাভ্যান্তরীণ এই বিশাল খা‌ত‌কে শুধুমাত্র ৩০০০ কো‌টি টাকার বরাদ্ধই  য‌থেষ্ঠ নয় ব‌লে এখা‌তে নি‌য়ো‌জিত বোদ্ধাগণ ম‌নে ক‌রেন‌ । দে‌শে কে‌রোনা প‌রি‌স্থি‌তি মোকা‌ বেলায়  এন‌জিও এমএফঅাই‌দের জন্য অন্তত  কমপ‌ক্ষে  অা‌রো ৮-১০,০০০ কোটি টাকার ঋণ তহ‌বি‌লের সংস্থান অতি জরুরী ।

ব‌র্দ্ধিত এই ৮-১০,০০০ হাজার কো‌টি টাকার তহ‌বিল এর বিষ‌য়ে দে‌শের শীর্ষ স্থানীয়  এন‌জিও এমএফঅাই‌দের সমন্ব‌য়ে   এমঅার এ এবং পিকেএসএফ এর মাধ্য‌মে যৌথ ভা‌বে জরুরী ঋণ তহ‌বিল / ক‌রোনা ঋণ তহ‌বিল না‌মে  ঋণ ফান্ড গঠন করা ও সংগ্রহ করা যে‌তে পা‌রে, যাহা স্বল্প সু‌দে  বিতরণ করা যে‌তে পা‌রে ব‌লে এখা‌তেনি‌য়ো‌  জিত অ‌ভিজ্ঞজন ম‌নে ক‌রেন।

দেশের সা‌র্বিক অর্থনী‌তি‌কে টি‌কি‌য়ে রাখার জন্য মধ্যম ও বড় ব্যবসা রক্ষা করাওপ্রয়ো জন। কারণ বড় প‌্র‌তিষ্ঠান বৃহৎ ও নতুন চাকরির সু‌যোগ  সৃষ্টি করে।  যে‌হেতু বড় প্র‌তিষ্ঠানর সামাজিক ব্যয়ও অনেক বেশি তাই  তা‌দেরকে এ দুঃসম‌য়ে ভর্তুকি দি‌য়ে হ‌লেও কর্ম প‌রি‌ধি ধ‌রে রাখা এবং ভর্তু‌কি ও সহনীয় ঋ‌ণে পুঁজি সরবরাহ অব্যাহত রাখ‌া যাহা দে‌শের বৃহত্তর স্বা‌র্থ রক্ষারজন্যই কর‌া প্র‌য়োজন।

এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত পাঁচ মার্চ ৬৭,৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ সহ মোট ৭২,৭৫০ কোটি টাকার সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এখন দরকার স্বচ্ছ ও জবাব‌দি‌হিতার সা‌থে এ অ‌র্থের স্বচ্ছ ও সুষ্ট বিতরণ নি‌শ্চিতকরা।

উপসংহারে বলা যায় কোভিড-১৯ যে‌হেতু একটি ব্যাপক সংক্রামক রোগ এর তান্ডব কতদিন চলবে অামরা তা কেউ জানি না। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর মতো  করোনা ভাইরাস দীর্ঘ সময় থাকুক এটা আমরাকেহ  চাই না সে কার‌নেই সতর্কতা হিসা‌বে আমা দের বাস্তব ভি‌ত্তিক পরিকল্পনা নি‌য়ে এগু‌তে হ‌বে।

এ মুহু‌র্তে সব‌চে‌য়ে বে‌শি প্র‌য়োজন কে সর কা‌রি কে অসরকারী ‌সেটা ভু‌লে গি‌য়ে ছোট বড় সকল খাতের যৌথ উদ্যোগকে তু‌লে ধরার সকল প্রয়াস অব্যাহত রাখা। যার যার স্থান থে‌কে তা কর‌তে হ‌বে। এবং সেটা সক‌লে মি‌লেই যুথবদ্ধভা‌বে এখন থে‌কে শুরু কর‌তে হ‌বে। তাহ‌লে হয়‌তো বিপদ থে‌কে মু‌ক্তি পাওয়া সম্ভব হ‌বে।

(ছড়াকার, কবি, কলা‌মিষ্ট, উন্নয়ন কর্মী)

No comments:

Post a Comment