Tuesday, December 15, 2015

তৈল মর্দনে শটতা হয় সততা -----রুহুল আমীন


তৈল মর্দনে শটতা হয় সততা
            রুহুল আমীন ।
--------------------------
পৃথিবী চলছে এখন তেল ,তাল আর টাকায় ।টাকায় কি'না হয়-বাঘের চোখও মেলে।তাল মিলিয়ে চলতে পারলে সবই সম্ভব।পাশাপাশি তেল দেবার অভ্যাস থাকলে তো কথায় নেই।
বস আপনার অমুক গুণাবলি আমার খুব ভাল লাগে।আজ আপনাকে খুব ভাল দেখাচ্ছে ।ভাবী কিন্তু খুব সুন্দরী ।এই সস্তা তৈল মর্দনের দিন ফুরিয়েছে।কৌশল ও ভোল পাল্টিয়ে আজ তৈল মর্দনের বিষয়টিও অতি আধুনিক হয়ে উঠেছে ।তাই বিভিন্ন জায়গায় গ্রুপিং লবিং হলো আধুনিক তৈল মর্দন।এতে করে হাজারো শটতা সততায় পরিনত হয়।ফলে তরতরিয়ে ফুলে ফেঁপে কলাগাছ হতে বাঁধা থাকে না।নেতাকে সামনে রেখে ছড়ি ঘোরালে নেতা হওয়া যায়।আর নেতা না হলেও জনগনের মাথায় কাঁঠাল রেখে কোষ খাওয়া তো চলে।জনসভায় নেতাকে সেলিব্রিটি সাজিয়ে ছবি তুলে নিজের সাথে ভাল সম্পর্ক বুঝিয়ে নিজেকে নেতা বানানো অথবা আখের গোছানো কিম্বা অন্যের কাছে ক্ষমতা জাহির করা যায়।অফিসে বড় বসের সাথে সম্পর্ক প্রদর্শন করে অধীনস্থদের উপর আধিপত্য বিস্তার করা যায়।এ জন্য বসের জন্য তৈল মর্দনের আধুনিক কৌশল গুলো শিখে নিতে হবে।এই যেমন অধীনস্থ কারো দেয়া অথবা অফিসের এ হাত ,ও হাত করা টাকা বা দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে মুচকি হেসে অথবা ঘেঁমে নেয়ে উপঢৌকন নিয়ে বসের বাড়িতে গোপনে পৌছে দিয়ে আমার বাড়ীর জিনিস বা আসার সময় সস্তায় পেলাম বা আমার এলাকার নামকরা জিনিস বলে চালিয়ে দেয়া আধুনিক তৈল মর্দন।তৈল মর্দন কে না চাই ।আমারও জ্বিব লকলক করে তালের গন্ধে ,শরীর আগলে দিতে ইচ্ছা হয় তেল পেতে।তেল আপনার আমার ঘরের বধূও পেতে চাই।পেতে চাই কেন বলছি তেল দি ও বটে।আমিতো দি - আমার মনে হয় পাঠক আপনারাও তেল দিতে অথবা তেল পেতে ভাল বাসেন।আর যদি তৈল মর্দন অপছন্দ করেন তবে ভুল করছেন।পাঠক আমার মত বধূকে তেল দিয়ে অভ্যাস করুন ।আর আপনি নারী হলে তেল নিতে থাকুন।একবার আমার এক বন্ধু আমাকে বলল তুই তো পুরুষ না বউয়ের তেল দিয়ে চলিস আরে বউ একটা গেলে আরো ভাল বউ পাবি।তোর বউয়ের জন্য তো ক্যারিয়ার শেষ করে ফেললি।বলে রাখা ভাল আমার স্ত্রী কয়েক বার মারাত্মক অসুস্থ হয়েছে ।তার মানে দীর্ঘ মেয়াদী অসুস্থ নয়।যখন অসুস্থ হয়েছে তখন প্রচার একটু বেশি হয়েছে ।তাই বলে সংসারে কখনও কোন কাজের লোক নাই।কখনও কোন আত্মীয় পরিজনের সহযোগিতা নেই নি।সারাদিন অফিস সামলে বাসার কাজে সহযোগিতার কোন সুযোগ নেই ।তবে ছুটির দিন তাকে সহযোগিতা করি সাধ্যমত।কোন বিলাসিতার জন্য দায়গ্রস্ত হয়েছি বলে মনে পড়ে না।এরপরও কেন যে আমার বন্ধু এমন করে বলল তার উত্তর আমি খুজে পেলাম না।এরপর আমার সে বন্ধুর খোজ নিয়ে দেখলাম তার বাড়ীতে সব সময় কাজের লোক রাখতে হয়।বিয়ের পর হতেই কোন না ভাবে মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সংসারের কাজ সারতে হয় ,না হলে হয়ত সেই বন্ধুর মাছ মাংস খাওয়া হয় না।বউয়ের সামান্য অসুস্থতায় একদিন আমার সেই বন্ধুকে যে উতালা হতে দেখলাম তাতে আমার মনে হলো আমি যদি বউয়ের তেল দিয়ে থাকি তাহলে আমার বন্ধুটি তেল দিয়ে গোছল করায়।
যা হোক এই গল্পের অবতারনা করলাম এই জন্য সবাই কোন না কোন ভাবে তেল দিতে অথবা পেতে ভালবাসে -এটা তার উদাহরণ ।এই তৈল মর্দন আজ সমাজ ,পরিবার ,অফিস ,দেশ , রাজনীতি তথা বিশ্বময় ।এই তৈল মর্দনের মাধ্যমে সকল শটতা আজ সততা হিসাবে স্বীকৃত হচ্ছে ।তবে সকলের মনে রাখা উচিত অবৈধ সম্পদ যেমন দীর্ঘমেয়াদি নয় তেমনি তৈল মর্দনের অর্জন বেশিদিন ধরে রাখা যায় না।

তাই আসুন তৈল মর্দন নয় দক্ষতা অর্জন করি,সততার জীবন গড়ি।
       kmrahat81@gmail.com
         14/12/2015

No comments:

Post a Comment