Tuesday, February 16, 2016

শৈশবের দিনগুলো """"""""""""""""" এম কে সাগর

শৈশবের দিনগুলো
এম কে সাগর
"""""""""""""""""""""""""""""""""
মনে পরে সেই হারিয়ে ফেলা
         শৈশবের দিনগুলোকে
               কিশোর বেলাতে কত হৈচৈ করে,
         ছুটে চলতাম মাঠ থেকে মাঠে
              মেঠো পথ থেকে পথে
কখনো ছোট নদীর কাছে
                কখনো ভারা সোনালী ধান ক্ষেতের ।
সারাক্ষণ লোকচুরি খেলা করতাম
        মাটির দেয়ালের ছোট ছোট বাড়িতে,
               ছুটে চলতাম জ্যোৎস্না মাখানো গ্রামে
                      যেখানে গাছে গাছে বসে পাখি গান গাইতে
       সকাল থেকে সন্ধ্যা রাত্রি নাগাদ।
ছোট নদীতে বৈশাখ মাসেতে হাটু জলে
            কৈ, মাগুর, রাজপুটি মাছ
                    ধরতাম বন্ধু সজন মিলে,
                    সারাক্ষণ চারিদিকে ঘুরতাম
কত শত বাহানাতে
            ছুটাছুটি করে ।
ঘাস কাটিতে যেতাম আমরা
         পাঁঠশালা কামাই নিতে,
             পক্ষির বাসা থেকে
পাখির ছানা করতাম চুরি,
            পালন করবার তরে
খানিক পরে ক্ষুধার জ্বালা
      সহতে না পেরে ও মায়ের আদরের অভাবে মরে যেতো।
মাঝে মাঝে সোনালী ধান ক্ষেতের কাছে
            যেতাম বাদামি ঘাস ফড়িং   
                 এর পাশে একা ছুটে বেড়াতাম
                     বিশাল খাঁ খাঁ মাঠের পরে,
বটগাছের তলে, ছায়াতে
          একা বসে উদাস মনে
              তাল পাতার বাঁশি বাজাতাম একা
                 বলদ গরু মাঠে ছেড়ে দিয়ে
          কচি ঘাস খাওয়াতে।
বাদলা দিনে ঝগড়া বিবাদ ভুলে
           কত রকমের খেলা করতাম
               আমরা বন্ধু জন মিলে,
            ভাল লাগতো ভীষণ মায়ের তৈরি করা
          মুড়ি মোওয়া আর চেনা বাদাম।
সাঁঝ রাতে বাড়ির ওঠানে
            শীতল পাটিতে বসে
                 পাঠশালার পড়া করতাম মাটির কুপি জ্বলে
               নীল আকাশের তাঁরা চাঁদ, জ্যোৎস্না, জোনাকি
            আলোকময় করতো ভূবণ।
শীতের দিনে পিঠা পুলির
       আসর তৈরি হতো গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে,
           মাঝে মাঝে সন্ধ্যা রাতে খেজুর গাছ থেকে
                রস চুরি করতাম বন্ধুরা মিলে
              খেতাম বসে শুকনো ধান গাছের পালার ফাঁকে
        আমরা কয়েকজন দুষ্টু মিষ্টি বন্ধুরা মিলে।
১৫ ফেব্রুয়ারী
জিয়ানগর, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।

No comments:

Post a Comment