শিরোনামঃ করোনায় মাঝির অাঁকুতি
কবিতাঃ ও মাঝি ভাই
বলি ওরে, ও মাঝি ভাই,
ডাকছো কেন? সময় এক্কেবারে নাই!
বলছি, বোস। একটু শুধাই
কও না বাহে, একটু না দাঁড়াই
মাঝি, তবে কেন এত তাড়া?
সব কিছু কি হচ্ছে সারা?
কি অার বলবো, রোগ নাহি ছাড়ে?
ক্যামনে তবে বসবো বা'রে?
তো বলি তবে, যাচ্চো কোথায় ?
যাচ্ছি না'য়েতে, দূরের গাঁ'য়!
কত দূরে? কিশের লাগি?
গ্রামের বাড়ী! সেথায় থাকে মোর অভাগী!
যাবে কিসে? সুযোগ তো নাই!
দুঃশ্চিন্তা মনে! ভাবছি, কেমনে যাই?
লকডাউনে, সব যে বন্ধ?
ভাবি! অামার অাসলে কপালটাই মন্দ!
তো, টাকা কড়ি?
হাতে যা ছিল, নিচ্ছি ধরি!
যাক, এবার বলো, তাড়া ক্যানে?
শুনেছি অাজ, বউ'রে যে করোনায় টানে
তয়, যাচ্ছ তো! ফিরে অাসবে কবে?
নাহি জানি, ফিরবো কবে? কি যে হবে?
অাসবে তো ফিরে?
নয় বা কেন? হেথায় অাসি রুজির ফেরে!
ভালো থেকো, ফিরে অাসো, এটাই চাই!
অাসবো, ভালোবাসো যে, ফিরবো তাই!
বাঁচি যদি এবার
এবার যদি বাঁচি
নাচে গানে সুরে সারা রাত ধরে
অানন্দে উঠবো মাতি
এবার যদি বাঁচি
রাধবো হাড়িতে খাওয়াব বাড়ীতে
মা'র হাতের ভুনা খিঁচুরি
এবার যদি বাঁচি
নৌকায় দোলায় সাতরে ভেলায়
বিলের জলে রব ভাসি
এবার যদি বাঁচি
জোছনার দেশে তারারই বেশে
হারাবো সারাটা রাত্রি
এবার যদি বাঁচি
নূতন প্রেমেতে অানন্দে মেতে
অভিসারে হব যাত্রি
এবার যদি বাঁচি
শিউলি ঝুলিয়ে খোঁপায় দুলিয়ে
রঙিনে রাঙাব সিঁধি
এবার যদি বাঁচি
পাহাড় পর্বতে সৈকত হ্রদেতে
বেড়াব সমগ্র ধরিত্রি
এবার যদি বাঁচি
কবির সুখে কবিতা লিখে
জ্বালিবো প্রেমের অারতি
এবার যদি বাঁচি
শিল্পির বেশে শিল্পের রসে
অাধারে জ্বালাবো বাতি
এবার যদি বাঁচি
দেনা শুধিবো পাওনা দেবো
ঋণ দেব সব চুকি
এবার যদি বাঁচি
দিবা সন্ধা বেলায় ধর্ম শালায়
পোড়াবো পাপের ভিত্তি
এবার যদি বাঁচি
ভুল ত্রুটি ঝেরে নিরহংকারে
ক্ষমা ব্রতে রব নিত্যি
এবার যদি বাঁচি
রোগ ব্যাধি জরা দূর করি ত্বরা
রাখবোনা কোন ঝুঁকি
এবার যদি বাঁচি
দলমত ভেদি জাত পাত রোধি
গড়বো দেশটা সমৃদ্ধি
এবার যদি বাঁচি
মেঘ বৃষ্টি রুপে সাজি অপরুপে
ঝরবো বাঙলায় অাসি
এবার যদি বাঁচি
শাপলার গন্ধে লাল সবুজ বঙ্গে
ধুলায় ধাকবো মিশি
এবার যদি বাঁচি।
(ভয়াবহ করোনা থেকে মুক্তির প্রত্যাশায়)
শিরোনামঃ শেষ যাত্রা
কবিতাঃ মৃত্য
মৃত্যু
এক অমোঘ নিয়তি
জীবনের পূর্ণ সমাপ্তি
জীবন পূর্ণতা প্রাপ্তির সনদপত্র
নশ্বর পৃথিবীর থেকে
প্রিয় মানুষগুলো হতে ‘আল-বেদা’
ফুলে-রং-সৌরভ,পাখি, সোনালী আকাশ,
বৃষ্টি, ঘন বর্ষার ঘনঘটা, শরতের কাশবন পলাশ, শিমুল থেকে চিরতরে আড়াল করা
তবুও মৃত্যুর সখ্যতা নিরন্তর
একাত্তরের বোমারু বিমানের শো শো শব্দ
মাথা ছুঁই ছুঁই মুড়ি-মুড়কির মতো বোমা বর্ষণ, তখনই প্রথম মৃত্যুভয়
মৃত্যুর মিছিল দেখেছি তারপর! অনেক!
একাত্তুরে স্বচক্ষে দেখেছি সারিবাঁধা লাশ প্রতিবেশীর লাশ কুকুরে কামড়াতে
শিয়ালে-কুকুরে মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ খেতে
মৃত্যু দেখেছি ইরাক, অাফগানিস্তান,লিবিয়া ইয়ামেন সিরিয়ায়
আয়লান কুর্দির নিষ্প্রাণ নিথর শরীর তুরস্কের সৈকতে পড়ে থাকতে দেখেছি
দেখেছি সোমালিয়ায় কঙ্কালসার মানব দেহের হাজারো কফিন
কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানির মৃত্যু
করোনায় অাপনজনহীন নিথর নিস্তব্ধ মৃত্যু
মাঝে মাঝে মনে হয়
মৃত্যু কেবল কি বেদনার, শোকের ?
মৃত্যু সুন্দর, সুনির্মল সুনিশ্চিত
নাকি মৃত্যু মাতমের, আহাজারি কান্নার? মৃত্যু কেবলি এক জীবনের যতি চিহ্ন জীবন-নাটকের কালো অাঁধারের ড্রপ স্ক্রিন
মৃত্যু বেদনার
গুণী মানুষের মৃত্যু সেলিব্রেট হয়
তাঁর মৃতের অর্জনের মধ্য দিয়ে
মৃত্যু মানেই নহে শেষ, মৃত্যু মানেই নব জীবনের হালখাতার পাতা
মৃত্যু হচ্ছে, বিশ্বাসীদের বাড়ি ফেরা
মৃত্য হচ্ছে সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী!
সেই প্রতিবেশি জীবনের জানালা খুলে মধ্যরাতে যদি ডাক দিয়ে বলে, এখন তবে অাসুন!
না বলার কি কোন রকম জো আছে ?
ভাবি সুন্দর সফেদ নরম তুলতুলে মানব
কী করে থাকো তুমি মাটির ঘরে?
নিকোষ কালো অন্ধকারে!
লেখকঃ
রফিকুল ইসলাম সরকার (সুপ্তকূঁড়ি)



No comments:
Post a Comment