হে জননী তোমার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের
বাঁচাতে দাও ।
কষ্টে নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্টে আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট
সত্যিই আজ কষ্টে আছেন আমাদের প্রিয়জন কবি
হেলাল হাফিজ
এখন যৌবন যার, মিছিলে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার , যুদ্ধে যাওয়া তার শ্রেষ্ঠ সময় ।
এই লাইন গুলো পড়ে
যুদ্ধের ময়দানে জাপিয়ে পড়েছে লক্ষ্য লক্ষ্য
মানুষ
অথচ জীবন যুদ্ধে তিনিই আজ পরাজয় বরণ
করেছেন
মানব জন্মের নামে কলস্ক হবে
এমন দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই ,
কি অসম্ভব কথা বলেছেন কবি
অথচ আজ কবি নিজেই রাতে ভয়ে কাবু শুনলাম তার
অসহায়ত্ব
হে বাংলা কবে আমরা মানুষ হবো ??
ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে
সম্রাজ্য বাড়াবো
না কবি সেই আশা আজো পূরণ হলো না
কবি তাইতো বলে ছিলেন
আমার কষ্টেরা বেশ ভালোই আছেন ,
আসলে কবির কথাই সত্য হলো
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে -
বোশাখে ,
বাঁচবে যুদ্ধশিশু সসম্মানে সাদা দুধে - ভাতে ।
কবির মনুমিয়া এবং যুদ্ধশিশু হয়তো দুধে ভাতে আছে
কিন্তু
কবি কে দু বেলা দু ' মোটো ভাতের জন্য
অপেক্ষা করতে হয় !!!!!.!! এই কষ্ট আমাদের !
বাঙালী জাতির ????
কেউ জানে না আমার কেন এমন হলো ।
কেন আমার দিন কাটে না রাত কাটে না
রাত কাটে তো ভোর দেখি না
সত্যি আজ কবির রাত কাটে ভয়ে !!!!
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় এই কবি রাতে ভয়ে কাঁদে
হায় !! এতো উন্নয়ন কিন্তু কবি উন্নয়ন কোথায় ??
দুই ইন্ঞ্চি জায়গা হবে ?
বহুদিন চাষাবাদ করি না সুখের ।
মাত্র ইঞ্চি দুই জমি চাই
এর বেশি কখনো চাবো না ,
বিধান কি নিষ্ঠুর !!!
কবিকে পল্টনের জরাজির্ণ একটি
ছোট হোটেলের রুমে কবি কে তার
কবিতার দুই ইঞ্চি জায়গা দিলেন !!
কেমন আছেন কবি হেলাল হাফিজ?
বাংলা ভাষার জীবিত কবিদের মধ্যে
নি:সন্দেহে সবচেয়ে জনপ্রিয় পাঠকপ্রিয়
কবি হেলাল হাফিজ।একজন চির তারুন্যের
কবি।চির সবুজ কবি।নিভৃতচারী, বিনয়ী,
সদালাপী এবং চির অভিমানী কবি তিনি।
সদাসিদে জীবন যাপন তাঁর।দেশের সব
সন্মাননাই পেয়েছেন তিনি।চিরকুমার ছিলেন
তিনি।কোন এক অজানা অভিমানে বিয়ে
করেননি তিনি।পেয়েছেন মানুষের শ্রদ্ধা,
ভালোবাসা।আমি, আমরা সহ অনেকেরই প্রিয়
কবি তিনি।দূভাগ্যবশত তাঁর সাথে আজকের
আগ পর্যন্ত আমার পরিচয় ছিলোনা। একটি
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন জানাতে গতকাল ও আজ
গিয়েছিলাম কবির কাছে।গতকাল দেখা
পাইনি তাঁর।আজ দেখা পেলাম।একান্তে
কবির সাথে আলাপচারিতায় জানলাম
অজানা অনেক কিছু।কেমন আছেন আমাদের
প্রিয় কবি? দেখলাম চোখে ব্যর্থ
অপারেশনের ফলে প্রায় অন্ধ হতে চলেছেন
কবি।এক চোখে দেখেননা। আর এক চোখেও
ঝাঁপসা দেখেন।এজমার সমস্যা মারাত্নক
আকার ধারন করেছে।অন্যান্য শাররীক
সমস্যাও প্রকট।সুষ্ঠ চিকিৎসা ও সেবা জরুরী
পর্যায়ে পৌছেছে।বাঙ্গালী নাকি দাঁত
থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝেনা।একজন কবি
মরে গেলেই তাঁর প্রাপ্য সন্মান সহযোগিতা
পাবেন এটা কোন কথা?
জীবদ্দশাতে কেন নয়?আমি এই প্রজন্মের
সমস্ত কবিদের পক্ষ থেকে সরকারের শীর্ষ
পর্যায় থেকে শুরু করে মাননীয়া
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি
আর দেরী নয় অনতিবিলম্বে জরুরী ভিত্তিতে
কবি হেলাল হাফিজের সমস্ত উন্নত
চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। প্রয়োজনে
রাষ্ট্রীয় সমস্ত খরচে উন্নত চিকিৎসার জন্য
তাঁকে বিদেশে পাঠানো হোক।প্রধানমন্ত্রী
নিজে তাঁর সমস্ত দায়িত্ব নিক।তাঁর জন্য সহ
অন্যান্য জেষ্ঠ্য কবিদের জন্য সরকারী
ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হোক। এবং কবিদের সম্মানি ভাতা
চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি । কবিরা জাতীর
শ্রেষ্ঠ সন্তান দের একজন ।জীবদ্দশাতেই
তাদেরকে
যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক।কবি হেলাল
হাফিজ শেষ বয়সে এসে অন্তত সুচিকিৎসা ও
সেবা টা পাক।
No comments:
Post a Comment