Saturday, December 30, 2023

কাকতালীয়----আমীন রুহুল



একটি সাপ ফনা তুলে আমার চোখে চোখ রেখে লম্বা দ্বিখন্ডিত জিহ্বা নাড়ছে আর দুলছে।মাঝে মাঝে ফস ফস করে মাটিতে ছোবল মারছে।সাপটি আমার থেকে হাত খানের দুরে।কোনভাবে পা বাড়াতে পারছি না।ভয়ে সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।শত চিৎকারেও গলার স্বর বের হচ্ছে না।চিৎকার করতে করতে ঘুম ভেঙে গেল।ঘুম ভেঙে অনুভব করলাম গলার কাছে কম্বল ভেজা ।সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে।বালিশের  তলা থেকে মোবাইল বের করে আলো জ্বেলে সময়টা দেখে নিলাম।গত পনের দিন হলো একই রকম ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখছি।তবে কাকতালীয় ভাবে প্রতিদিনের সময় প্রায় একই,রাত দুইটা পনের মিনিট হতে বিশ মিনিটে স্বপ্ন শেষে ঘুম ভাঙছে।প্রতিদিনই ঘুম ভেঙে আবার ঘুম আসতে ঘন্টা খানিক সময় পেরিয়ে যায়।এরমধ্যে গত শেষ তিনদিনের স্বপ্নও কাকতালীয় কিনা জানি না তবে হুবহু একই।

লোহার খাঁচায় বন্দি একটি দোয়েল পাখি,যে মানুষের মত স্পষ্ট কথা বলতে পারে।পাখিটি আমাকে দেখে খুব করুণ স্বরে বলল,

- আমার খাঁচার দরজাটা একটু খুলে দাও ,আমাকে মুক্ত কর , তোমাকে সারা জীবন মনে রাখব, আমি খোলা আকাশে পাখা মেলতে চাই,আমার সন্তানেরা বাইরে কাঁদছে।

আমি ফ্যাল ফ্যাল করে পাখিটির দিকে চেয়ে রইলাম।কিন্তু কোনভাবে বুঝতে পারছিলাম না, কে তাকে আটকে রেখেছে ,কার পোষা পাখি , কে মালিক।

কিন্তু মনোমুগ্ধের মত পাখির স্পষ্ট কথা শোনা ছাড়া কোন উত্তর সামনে এল না।কিছু বুঝে ওঠার আগে পাখিটির আচরণ পাল্টে গেল।পাখিটি দারুণভাবে উত্তেজিত হয়ে খাঁচার দেওয়ালে ডানা ঝাপটাটে শুরু করল।সব পাখনাগুলো এতটা ফুলতে শুরু করলো যেন খাঁচার ফাঁকা জায়গা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।এবার বিরক্তিকর কন্ঠে পাখিটি বলতে শুরু করল ,

-আমাকে আটকে রেখেছিস কেন ? খাঁচার দরজা খুলে দে, আমাকে মুক্ত কর ,আমি দেশের জাতীয় পাখি ,আমাকে আটকে রাখে কার ক্ষমতা ?

কথাগুলো বলতে বলতে ঠোঁট দিয়ে এমনভাবে লোহার শিকগুলোকে ঠোকরাতে থাকল ,যেন এখনই ভেঙে বেরিয়ে আসবে।হঠাৎ খাঁচায় মাথা আটকে গেল আর মাথাটা শরীর হতে আলাদা হয়ে গেল।আমি অবাক হলাম ,খাঁচা কি ব্লেড দিয়ে তৈরি ! পাখির গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকল।এমন সময় ঘুম ভেঙে গেল।গত তিনদিনের স্বপ্ন এই একই পাখিকেই ঘিরে এবং একই ঘটনা।তাও শুরু ও শেষের জায়গাতে কোন পরিবর্তন নেই , একই।আরও একটি কাকতালীয় সত্যি হলো স্বপ্নে দেখা দোয়েল পাখির মত খাঁচাসহ একটি দোয়েল শোপিচ আমার শোকেসে সাজানো আছে।প্রথম দিন যখন বিষয়টি নিয়ে স্বপ্ন দেখলাম,সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি বাসার সকলের কাছে জানালাম।দ্বিতীয়দিনও একই স্বপ্ন দেখার ফলে বিগত ক'দিনে আমার সাথে কি ঘটছে তা বাড়িতে জানালাম।কিন্তু কেউই বিষয়টিকে পাত্তা দিল না।তবে পাশে যিনি রোজ ঘুমায় তিনি রসিকতার ছলে বালিশের তলায় ঝাঁটার কাঠি রেখে ঘুমাতে বললেন, সাথে সাথে এটাও বললেন, তোমার জন্য রাতে আমার খুব ডিস্টার্ব হয়।

দুইদিন যখন একই স্বপ্ন দেখলাম তখন তৃতীয় দিন মাথা বালিশে রেখে গত কয়েকদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণ খুঁজতে খুঁজতে চোখ লেগে গেল।কিন্তু একই স্বপ্ন শেষে যখন ঘুম ভাঙলো ,তখন প্রতিদিনের মত মোবাইল জ্বেলে সময় দেখতে গিয়ে আতকে উঠলাম।মাথার কাছে শোপিচটা পড়ে আছে ! ভয়ে ভয়ে শোপিচ হাতে নিয়ে ঘরের বাতিটা জ্বেলে নিলাম।শোকেসের কাছে গিয়ে দেখলাম ভেতরে শোপিচটা নেই।কিন্তু কোনভাবে মনে করতে পারলাম না যে শোপিচটা কখন মাথার কাছে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম।তবে এরপর আর ঘুম আসেনি।পাশে ঘুমানো মানুষটাকেও ডাকিনি পাছে ঘুমের ডিস্টার্ব হয়।ভোর হতেই অনেক ভেবে শোপিচটা নিয়ে পাঁচতলার সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে গেলাম আর বিল্ডিংয়ের পেছনের ময়লার স্তুপের মধ্যে শোপিচটা ছুঁড়ে দিলাম।এবার বলুন হুজুর আমার এখন কি করা উচিত, কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে  ? সাগরের নরম গলায় পুরো ঘটনা শুনে ইমাম সাহেব চোখ বুঁজে রইলেন ।

No comments:

Post a Comment