নিঝুম রাত আমি হেঁটে চলেছি,নিস্তব্ধ শহরের বুকচিরে।
কোথাও নেই কোন শব্দের ডামাডোল, নেই কোন ঝিঁঝি পোকার জ্বলা নেভার নৃত্যের আস্ফালন।
আমি হাঁটছি অন্ধকারকে বিদীর্ণ করে, আর আমার সাথে কেবল হেঁটে চলেছে ঐ, মেঘমুক্ত শুভ্র বিশাল আকাশ।
হঠাৎ,আমার সামনে পড়লো একদল কুকুর।
সংখ্যায় তাঁরা সাত থেকে আটতো হবেই।
আমাকে দেখে এগিয়ে এসে শুরু করলো কি ভয়ংকর ঘেউঘেউ ধ্বনি।
আমি বললাম,আমি ক্লান্ত তোরা আমাকে জ্বালাতন করছিস কেন?
যা এখন, যা বলছি তোদের।
সাথে সাথে ওদের গলার স্বর নীচু হলো আর আমাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো তাঁদের শিকারী চোখ দিয়ে,বুঝলো আমি নিরপরাধ!
আমি ওদের থেকে মুক্তি পেলাম,এগিয়ে চললাম আরও সামনের দিকে।
কিছুদূর যেতে না যেতে সম্মুখীন হলাম,আরও অনেক দলবদ্ধ কুকুরের সামনে পর্যায়ক্রমে।
প্রত্যেক দলেরই সুক্ষ্ম বিচারের আসন ছিলো সুদৃঢ় ও ঋদ্ধ!
আমাকে তাঁরা সবাই মুক্তি দিলো, আমিও মুক্তি পেলাম সবার কাছ থেকে একে একে।
তবে,একটা ভয় কিন্তু আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল সবসময়;সেটা হলো মানুষ!
ওরা যেকোন সময় আক্রমণ করতে পারে আমাকে,কেড়ে নিতে পারে আমার সম্পদ,কেড়ে নিতে পারে এমনকি, আমার প্রাণ ; যদি আমি আমার সবকিছুও তুলে দি ওদের হাতে এক এক করে।
আজ আমি সত্যিই লজ্জিত ও অবনত;কিছু কুকুরের হৃদয়ের কাছে।
ওরা শিখালো আমাকে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে করো না আক্রমণ, করো না লুন্ঠন, ভেঙে ফেলো না তুমি তোমার মানবতার আসর।
তবুও আমি মানুষ! তবুও আমার চতুর্দিকে কত মানুষ ; হাজারে হাজারে মানুষ, লক্ষ লক্ষ মানুষ,কোটি কোটি মানুষ;মানুষ আর মানুষ!
আমার চোখের সামনে কিলবিল করছে কত অগণিত মানুষ।
ওরা;ওরা সবসময় আমাদের বার্তা দেয়,তবুও শিখি না আমরা ওদের কাছ থেকে কোনকিছু।।

No comments:
Post a Comment