বিশেষজ্ঞগণ বলছেন করোনা সহজে করুনা করবে না। অর্থাৎ করোনা সহজে দেশ হতে যাবে না। তার অর্থ হচ্ছে অাগামি সময়েও করোনার সাথেই দেশবাসীকে বসবাস করতে হবে।
করোনা মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ ভাবে প্রভা বিত করলো যে বিষয়টা এবং মানুষের মনের মধ্যে গ্রথিত করলো অার সেটা হল বিশ্বাস ভেঙ্গে দিল এবং ভয় প্রতিষ্ঠা করে দিল। বুণে দিল সন্দেহ।
করোনা যে সন্দেহ/ভয়: বিশ্বাস/অবিশ্বাস তৈরি করে দিলো তা যে কতদিন মানব সমাজকে ভোগাবে তা বলা মুশকিল। তবে মোটাদাগে বলা যায় যতদিন এর টিকা শতভাগ প্রদান ও নিশ্চিত করা সম্ভব না হবে ততদিন হয়তো এ সন্দেহ/ভয়: বিশ্বাস/অবিশ্বাস নিয়েই বাঁচতে হবে।
বিদেশ ফেরৎ বাবা ভাইকে যেমন বাড়ীতে ঢুকতে দেয়নি তেমনি সন্তান করোনাক্রান্ত বাবা মাকেও ফেলে যেতে দ্বিধা করেনি। যা মানবতার ইতিহাসে একটি বিরলতম ঘটনা, বিষয়।
এমনতর বিষয় দেখা ও শোনার পর হয়তো প্রজন্মের মধ্যে বিদেশ যাওয়া, বিদেশ থেকে অাসা, রেমি টেন্স বা টাকা পাঠানো সব কিছুর পরিবর্তন হয়ে যাবে। হয়তো বা বিদেশ যেতে চাইবে না, গেলেও অার ফিরে অাসবেনা অাবার গেলেও হয়তো প্রিয়জন দের অর্থ পাঠানোর বিষয় কি হবে বলা মুশকিল।
অামাদের সংস্কৃতি ছিল কারো সাথে দেখা হলে হ্যান্ডশেক বা কোলাকোলি করা করোনা সেটিও সোস্যাল ডিস্টেন্স এর নামে দূরে ঠেলে দিয়েছে। বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে বেড়াতে গেলে হয়তো আর বাড়ির অন্দর মহলে জায়গা হবে না । বাড়ীর ফটক তো দুরের কথা রাস্তা থেকেই হয়তো বিদায় নিতে হবে।
ভবিষ্যতে হয়তো বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়ার রেওয়াজই থাকবে না। থাকবেনা সকল বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে কোন অনুষ্ঠান, বিবাহ স্বাদি, মিলাদ মাহফিল এমনকি জানাযা বা চল্লিশার মত অনুষ্ঠান করার প্রথা। হয়তো নুতন অাঙ্গিকে এ সব পালন করা হবে।
পরিবারে জন্মদিন পালন কিংবা বিয়ের অনুঠানের নিমন্ত্রণ পত্রের তলায় হয়তো ছাপাতে হবে ‘ করোনা বিধি প্রযোজ্য’ এর বাইরে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। অথবা করোনা নেই এ মর্মে সার্টিফিকেট ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নেই।
হোটেলে সাধারণ খাবার খেতে চাইনিজ খেতে কিম্বা বড় বড় হোটেলের ডিনার পার্টিতে যেতে মানুষ আর অাগের মত সাহস পাবে না। এমনকি এ রকম খাবারের অানুষ্ঠানিকতার বিষয়গুলি হয়তো অার থাকবেই না।
বেকারির তৈরি খাদ্য দ্রব্যাদি, প্যাকেটজাত সব ধরনের খাবার ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখা যাবে মানুষ অার পূর্বের মত ক্রয় বিক্রয়ে স্বাচ্ছন্দ ও নিরাপদ বোধ করবে না। সব সময় মনে মনে ভয় ভীতি বা সন্দেহ বিরাজ করবে।
অনুষ্ঠানের জন্য পাচক নেয়ার ক্ষেত্রে কিংবা পরিবারের খাবারের জন্য হোম ডেলিভারি দেয়ার ক্ষেত্রে এবং ডেলিভারি -পার্সনদের অর্ডার দেওয়ার আগে, হয়তো করোনা-রিপোর্ট দেখে নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতা মুলকভাবে মেনে চলতে হবে।
স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রভুতিতে ক্লাস ও বন্ধু বান্ধব শিক্ষার্থীদের মথ্যে সবসময় দূরত্ব বজায় রাখার কালচার তৈরি হবে।
ক্লাসে পাশাপাশি না বসে দূরে দূরে বসার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
মানুষের স্বভাব চরিত্রে বড় পরিবর্তন হতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে, রাগ বেড়ে যেতে পারে, সম্পর্কের গভীরতা কমতে পারে, অবিশ্বাস বেড়ে যেতে পারে, অাস্থা ও নির্ভরতা হ্রাস পেতে পারে।
সবচেয়ে হাত বদল হওয়া যে জিনিসটি সেটি হল টাকা। এই টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস। তাই ভবিষ্যতে হয়তো টাকা বিনিময় না হয়ে অন্য কোন মাধ্যমে হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
তবে সকল দেশের মানুষ অন্তত এতটুকু বুঝতে পেরেছে যে টাকা পয়সা ধন সম্পদ কোনই কাজে অাসে না। বরঞ্চ একটি মাস্ক বা পিপিই অনেক বেশি প্রয়োজন।
পরিস্থিতি যা তাতে ভবিষ্যতে ফ্যাশনেও পিপিইর মডেল প্রাধান্য থাকবে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এমনও হতে পারে পিপিই এর অনুকরণেই হবে সবার কমন পোশাক।
অফিস অাদালতে মার্কেটে এয়ারপোর্টে প্রবেশের সময় হয়তো ডিজইনফেকটেড কেবিনে ডুকে তারপর প্রবেশ করার সিষ্টেম চালু হতে পারে।
তবে ভালো দিক হল, মানুষ পূর্বের চেয়ে সচেতন স্বাস্থ্য বিধি মানতে সচেতন হবে, মাস্ক গ্লাভস ব্যাবহার বাড়বে , হ্যান্ড ওয়াশ ও স্যানিটাইজ ব্যাবহার বড়বে, নাক মুখ খোচাখুচি কমবে, হাচি কাশি ধুতু দিতে সাবধান হবে, ধুম পান কমবে, সর্দি জ্বর থেকে সাবধান হবে, উগ্রবাদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৃথিবীর বৃহৎ রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র প্রধানগণ যেভাবে করোনায় করুন দশা, হিমশিম খাচ্ছে, যদি তাদের সুমতি হয় তাহলে অস্ত্র পরমাণু বোমা ও মিসাইল বানাবার পরি কল্পনা মুলতবি রেখে হয়তোবা জীবন রক্ষা কারী ঐষধ,মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাই জ়ার তৈরিতে মননিবেশ করবে এবং খাদ্য উৎপা দনে মনযোগ দেবে। সে প্রত্যাশায় রইলাম

No comments:
Post a Comment