জীবন রাতে বাড়ি ফেরার পূর্বে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে কারবালার গোরস্থানের পথে রওনা দিল।রিকসায় চড়তেই চালক জিজ্ঞাসা করলেন ,-কারো কবর জিয়ারত করতে যাবেন বুঝি ?
জীবন শুধু উত্তর দিল -হুম।
এমন সময় একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর বলল ,
ভাই আমিও যাব।
জীবন তাতে কোন সায় যেমন দিল না,তেমনি বাঁধাও দিল না।
কয়েক মিনিটের মধ্যে রিকশা কারবালার গেটে থামলো।রিকশা হতে নেমে জীবন দেখলেন গোরস্থানের গেটে তালা দেওয়া ।
পরিচিত কণ্ঠস্বরটি বলল ,
-ভাই আপনি এখানে একটু দাঁড়ান ,আমি চাবি নিয়ে আসছি।
চাবি নিয়ে এসে জীবনকে পথ দেখিয়ে তার স্ত্রীর কবরের পাশে নিয়ে গেল পরিচিত কণ্ঠস্বরটি।জীবন কবরের পাশে গিয়ে চমকে উঠল ,হাসনাহেনা ফুলের গন্ধ চারিদিকে মৌ-মৌ করছে, অথচ আশপাশে কোথাও হাসনাহেনার গাছ আছে বলে তার জানা নেই।
হঠাৎ জীবনের মাথাটা রিমঝিম করতে শুরু করল।সাদা দস্তানা পরা একটি কাঁটা হাত এসে দুটি চোখ চেপে ধরলো ,জীবন সাথে সাথে জ্ঞান হারালো।কিছু সময় পর চোখে পানির ঝাপটায় চোখ খুলতেই ,পানির মগ হাতে স্ত্রীকে দেখে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকলো জীবন।
স্ত্রী বলল ,ভয় পাচ্ছ কেন ? আমি তো তোমার বউ,কি নিয়ে এসেছো আমার জন্য ?
জীবন কাঁপা কাঁপা হাতে আগর বাতির প্যাকেট এগিয়ে দিল।
স্ত্রী বলল ,দুর হ মিনসে ,আমি এসব দিয়ে কি করব ? আমার জন্য সোনার নেকলেস আনার কথা ছিল না , নেকলেস কোথায় ?
এই বলেই এলোকেশী নারী জীবনের পকেটের দিকে হাত বাড়ালো।
আর তখনই জীবন চিৎকার করে উঠল ,মরে গিয়ে ও শান্তি দিবি না রাক্ষসী ,এখনও তোর নেকলেস লাগবে ?বলেই গলা চেপে ধরলো।
জীবনের স্ত্রী সুমিতার জীবন তখন ওষ্ঠাগত, কোন প্রকারে স্বামীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল ,তোমার সাথে এক বিছানায় থাকা আমার সম্ভব না।
02/10/2016
No comments:
Post a Comment