Saturday, August 28, 2021

পারিবারিক ঝগড়ার পর শাশুড়ির ঝুলস্ত লাশ উদ্ধারের আধা ঘন্টার মধ্যে বউমার লাশ উদ্ধার

পারিবারিক ঝগড়ার পর শাশুড়ির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের আধা ঘন্টার মধ্যে বউমার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টিতে। মৃতরা হলেন- বসির উদ্দিনের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন (৬০) এবং তার ছেলের স্ত্রী হিরা খাতুন ওরফে জোসনা (২৬)।

শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই সময় বাড়ি থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, শাশুড়ি রোকেয়া ও পুত্রবধূ জোসনার মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে গত তিনদিন দুজনের মধ্যে কথা বলা বন্ধ ছিল। এমনকি তারা দুজনই তিনদিন ধরে না খেয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে পুত্রবধূ জোসনা অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়িতে পল্লীচিকিৎসক এনে তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়।


এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে ছেলে আব্দুর রহমান তার মা রোকেয়া খাতুন ও স্ত্রী জোসনাকে অনুরোধ করে দুজনের মধ্যে মীমাংসা করিয়ে দেন। ওইদিন দিনগত রাত ২টার দিকে রহমান তার মা রোকেয়াকে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখেন। এরপর শাশুড়ির লাশ উদ্ধারের আধাঘণ্টার মধ্যে আব্দুর রহমানের স্ত্রী জোসনারও লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওই সময় বাড়ি থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করে পুলিশ। তাতে লেখা ছিল”মুক্ত করে দিলাম, তুমি তোমার মাকে নিয়েই থাক।’ তবে স্বজনদের অভিযোগ, জোসনার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, জোসনাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিব হাসান বলেন, খবর পেয়ে শনিবার শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া ছাড়া হিরা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

পুলিশের এই তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে শাশুড়ি আত্মহত্যা আদা ঘন্টা পর বউয়ের মৃত্যুর দাবি করা হলেও চিরকুটের ভাষ্য অনুযায়ী শাশুড়ির আগেই পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।


No comments:

Post a Comment