হতাশা কিঃ কোন আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সম্ভব না হলে হাল ছেড়ে দেয়ার পর যে মানসিক অবসাদ দেখা যায় তাকেই হতাশা বলে
.
##কোথায় থেকে এ হতাশার সৃষ্টঃ-
১।মূলত মন খারাপ থেকে এ হতাশার সৃষ্টি। হতাশা একটা মানসিক ব্যধি।এটা জীবনের যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতি থেকে উদ্ভব হতে পারে।মূলত আমাদের অতিরিক্ত চাহিদা থেকেই এটার উৎপত্তি। সেটা হতেপারে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র অথবা মানসিক ।যে কোন চরম অভাবপূরণের আপ্রাণ প্রচেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে চরম ব্যর্থতা থেকেই এ হতাশার সৃষ্টি।মানুষের চাওয়া পাওয়া বিয়োগ থেকেই হতাশার সৃষ্টি।
## হতাশার জন্য যে লক্ষণগুলো পরিলক্ষিত হয়----
২।যখন একটা মানুষ বিষন্নতায় পর্যবসিত হয় তখন তার কিছু ভালোলাগে না।প্রচন্ড ডিপ্রেশনের কারণে বাড়তি চাপ বা ঝামেলা নেয়া থেকে বিরত থাকে, প্রচন্ড রকমে একাকিত্ব ফীল করে এবং একা থাকতেও ভালোবাসে।আত্মীয়স্বজন থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখে।কোন প্রয়োজনীয় কথাও ঝটপট শেষ করে কেটে পড়ে।
একা থেকে তার না পাওয়ার কষ্টটাকে ঘন ঘন মনে ধারণ করে কখনো হাউমাউ করে কান্না কখনো বা হতবাক হয়ে নিজের মনের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্ট করে।দীর্ঘদিন এবস্থায় থাকার পর জীবনের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।বেঁচে থাকাটা তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠে। চারপাশের আবহাওয়াও বিষাক্ত হয়ে যায়।
.
## যাদের হতাশা সহজে কাবু করতে পারেনা
৩। আমাদের জীবনের বাড়তি চাহিদা বা প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বা জীবনকে সুখী করতে গিয়ে যদি এমন অসুখী করে তুলি তবে কি দরকার আমাদের চাহিদাগুলো পূরণে এমন তাগিদ অনুভব করা?
আসলে ইসলাম আমাদের পূর্ণ জীবনবিধানের পথ প্রদর্শক।
একজন মুমিন কখনই দীর্ঘক্ষণ ডিপ্রেশনে ভোগতে পারেনা।কারণ প্রতিটা কাজের দায় আল্লার উপর বিশ্বাস রেখে সমপন্ন করে। জীবনের প্রয়োজনে, চাওয়া পাওয়ার চাহিদা বেড়ে যায় ।ব্যর্থতাও আসতে পারে যে কোন সময়। মানুষেরই ভুল হয়। আর একটা ভুল সিদ্ধান্ত একটা জীবনের উপর স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। প্রভাবটা সফলতার না হয়ে যদি ব্যর্থ হয়েই যায় তবুও প্রথমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।কারণ সুখ এবং দুখ সবটাই আল্লাহ নির্ধারণ করে থাকেন।আল্লাহর উপর মনে প্রাণে ভরসা রাখলে মনে একটা প্রশান্তি বিরাজ করে।এটা অনেকে মানুন বা না মানুন,,বা এটাতে যতই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নিয়ে আসুন এ কথা সত্য যে সুখের মালিক কেবল উপরওয়ালা যদিও তা হয় আমাদের কর্মফল।
আমরা আমাদের প্রিয়জনের দীর্ঘজীবন বা সফলতা বা শান্তির ও হেফাজত এমনকি বালা মসিবতের জন্য আমার আল্লার দরবারে যেমন কান্নাকাটি করি, ফানাহ চাই ঠিক তেমনি বিয়োগশোক সহ্য যখন করতে পারিনা তখন অন্তরের হাহাকার আল্লাহর কাছেই জাননো উচিৎ। তবে যে কোন শূন্যতা অলৌকিকভাবেই পূরণ করে দেয় তিনি।
আমাদের মনোবিশ্বাস আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।ঈমানের শক্তি হলো বড় শক্তি।
ডিপ্রেশনের ভোগে মনোবল হারিয়ে ফেলানোটা শয়তানের জয় । তাই এ সময় আল্লাহর সিদ্ধান্তই বড় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শুকরিয়া আদায় করে ভুলগুলো খতিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন একজন বুদ্ধিমান মানুষ বা ইমানদার মুমিন হিসেবে।ভুলের জ্ন্যই ব্যর্থতা, হতাশা,বিষন্নতা ঘিরে ধরে।আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে ,যে ভুলের জন্য জীবন বিপদগ্রস্ত সে ভুলগুলো শোধরাতে হয়।মনে মনে নিজেকে দৃঢ়তার সাথে সামনে পথ মোকাবেলা করার যে সংকল্প করতে পারে সেই জীবন যুদ্ধের প্রকৃত সৈনিক।
.
## বর্তমানে যারা সবচেয়ে বেশি হতাশায় ভোগে এবং এর থেকে মুক্তির উপায়---
বর্তমানে ডিজিটাল যুগে সব'চে বেশি বিষন্নতায় ভোগে প্রজন্মের তরুণ তরুণীরা। তবে নর - নারী অথবা যেকোন মানুষই হতাশায়,বিষন্নতায় আক্রান্ত হতে পারে।
ইদানিংকালে সবচেয়ে যেটা বেশি হচ্ছে তা হলো-- "মিথ্যে ভালোবাসার প্রলোভন"
নেট জগতে এক শ্রেণীর মানুষ যারা ভালোবাসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকা সেজে স্বার্থ হাসিলের পর নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। ভালোবাসায় অন্ধ প্রেমিক বা প্রেমিকা কিছু বোঝার আগে স্বার্থবাদী প্রেমিক বা প্রেমিকা তার স্বার্থ উদ্ধার করে কেটে পড়ে।
এমন ভুল ডিসিশনে যারা পতিত তারা ভালোবাসার সুখের প্রলোভনের মহূর্তগুলো না মনে করে যখন স্বার্থ হাসিলের পর আপনাকে অবহেলার যে চরম আচরণগুলো দেখিয়েছে তার জন্য তার থেকে রক্ষাপেতে মনে মনে ঘৃণা পোষণ করুন। আর নিজের কোন দিকটাতে নিজে ভুল ছিলেন তা বিশ্লেষণ করে নিজেকে তার থেকেও বেশি পারফেক্ট করে তুলতে সচেষ্ট হোন যাতে করে আপনার সাথে যে ক'টাদিন কাটিয়েছে তার জন্য কোন একসময় আপনাকে ডিনাই করার ফলে অনুশোচনায় ভোগে স্বার্থ নিয়ে আসা ভন্ড প্রেমিক বা প্রেমিকা ।এতে আপনার জীবনও সুন্দর হবে হতাশা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।
২।এ ছাড়াও হতাশায় ভোগে ---বিভিন্ন প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজের চাপে,চাকরি না পাওয়া,প্রমোশন না হওয়া আবার কখনো উপযুক্ত সঙ্গি না পাওয়া,সামাজিক চাপ বা হিংসুকদের নিকৃষ্ট আচরণে বিভ্রান্তিতে পড়া ইত্যদির কারণে বিমর্ষ হয়েগেলে নিজেকে উত্তরণের জন্য যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।
.
নিজেকে বিভিন্ন আনন্দময় পরিবেশে রাখতে হবে।যারা কটাক্ষ আচরণে অভ্যস্ত তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে চলা,যারা আপনাকে খুব ভালোবাসে তাদের সঙ্গ বেশি করে নেয়া তাদের সাথে দিনের কিছুটা সময় কাটানোর জন্য মনোরম পরিবেশে বেড়ানো।গল্পের বই বা কাছের মানুষজনের সাথে কিছুক্ষণ করে গল্পে আনন্দে থাকা।
ডিপ্রেশনে ভোগলে কখনো একা থাকা বা মদ্যপান অথবা বেডহেবিটে ইনভল্ব না হয়ে ধর্মীয় বই বেশি পড়া।এতে মানসিক প্রশান্তি ফিরে পাবেন।নিয়মিত নামাজ মনকে শান্ত করে।
হতাশা আর হতাশা থেকে উত্তরণ নিয়ে নিচে আমার একটা গদ্য কাব্য দেয়া হলো----
হতাশার মুক্তি
চাঁদনি ঐ জ্যোৎস্না রাতে কত স্বপ্ন দেখতো!
ঐ আকাশের চাঁদটা যদি আপন হাতে পেতো!
তবে তার নামের স্বার্থকতার স্বপ্ন পূরণ হতো
কত জ্যোৎস্না আকাশ পানে চেয়ে কেটে যেতো!
কত নির্ঘুম নিঝুম রাত আর নিসঙ্গতা সঙ্গী হতো
তেমনি এক খোলা জোসনায় তারাদের মিতালী দেখায়
যখন চাদনী খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো
দূরাকাশের ঐ চাঁদ হাসিতে ভেসে আসলো
এক্কেবারে মুখোমুখি দূরত্ব যেনো হাফ ইঞ্চি
কাছে পেয়ে মুখ কুচকিয়ে কাটলো এক ভেংচি
তবুও যখন অনড় ,দু'হাত বাড়িয়ে হাতে নিয়ে
কাঁপছে থরথর,এক সুখানুভূতিতে
শতজনমের চাওয়া হাতের মুঠোয় পেয়ে
হাতের মুঠোয় চাঁদ, যখন ছড়ালো এ সংলাপ
নিন্দুকের হাক -"পাগলের প্রলাপ ,হাতে তার চাঁদ"?,লোকেরাও অবাক!
কট্টরভাষীরা উপচিয়েছে যত বিষবাক্য
আকাশের চাঁদ মাটির গায় যেনো মাতাল শিল্পীর
বেতালে যাকে তাকে ভালোবাসার দিব্যি! আরো কত কি!
হতাশ চাঁদনী !তবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
চাঁদ হাতে নিবে চাঁদই হবে সাক্ষ্য
যদিও তা আকাশের চাঁদ নয় হীরা পান্নার
টিকরে পড়বে ঘরে আসবে আদুরে আনার
বিমর্ষতা নয় নতুন উদ্যোমে উদোম লক্ষ্যে
চাঁদনীর চাঁদ জয়ে আজ কট্টরপন্থীরাও পক্ষে।
( সম্পূর্ণই আমার নিজস্ব মতামত।কারোর মতের সাথে মিলতে নাও পারে)
No comments:
Post a Comment