Tuesday, October 9, 2018

নষ্টামেয়ে --------হোসাইন মুহম্মদ কবির



নষ্টামেয়ে: নামটা শুনলেই ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয় এ সমাজ, মুখে থুতু ফেলে।
আমি ও তো এ সমাজের মানুষ
আমার ও তো ঘর ছিলো
বাবা মা ছিলো,
আমি নষ্ট ছিলামনা,নষ্ট হয়ে জন্ম নেইনি,
ভালোবাসার প্লাবনে কাছে টেনে
সংসার বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বশ কেড়ে ছুড়ে ফেলেছে এ সমাজ থেকে।
নষ্টামেয়ের কলঙ্ক অপবাদ সইতে না পেড়ে বাবা হার্ট স্ট্রোক
করলো আর মা শোকে পাগল হলো, আমি হলাম গ্রাম ছাড়া।
বিশ্বাসে ভালোবেসেছি বলে ভালোবাসার অপরাধে
নষ্টামেয়ের উপাধী পেয়েছি উপহার।
এ সমাজ নষ্টামেয়ে করেছে আমায়।
 দিনের আঁলোতে যাকে নষ্টামেয়ে বলো, রাতের অন্ধকারে তাকেই কাছে টানো,
নষ্টামেয়ের ধুশিত গন্ধ মাংস রক্ত চুশে পিপাসা মিটাও।
তখন কেনো বলনা নষ্টামেয়ে,
লাথি মারি এ সমাজের গায়।
যে সমাজ সুন্দর জীবন দেয়না,
বরং আমার মতন হাজার কবিতার জীবন নষ্ট করে,নষ্টামেয়ের জন্ম দেয়, ধিক্কার এ সমাজ কে,
আর এ সাধুরুপি পুরুষের দল।তোমরাই তো নষ্ট করো,
আমারও স্বপ্ন ছিলো।
স্বামী সংসার সন্তান হবে
কিন্তু আজ তা শুধুই স্বপ্ন মাত্র।
নষ্টামেয়ের গ্রাম নেই, ঘর নেই সমাজ নেই ধর্ম নেই, আছে বুক ফাটা আর্তনাদ চোখেরজলে ভেজা রক্তে লাল বিছানা।
সব ভুলে নিত্য সাজি আবেদনময়ী রুপে।
পেটের খুদা মিটাতে নিত্য হাসি
বুকে চাপা কষ্ট চেপে।
হিংস পুরুষ রুপি জানোয়ার,নেশায় মাতাল হয়ে,ছিরে খায় মাংস পেশি রক্তাক্ত করে অঙ্গ।
তবু নীরবে সয়ে যাই কিছু পয়সা পাই বলে।
এসমাজ আমায় ভাত দেয়নি,
এ দেহ আমার পেটে ভাত দেয়
কাপড় দেয়,
নষ্টামেয়ে ছাড়া তোমাদের চলেনা,
তোমরাই গোড়েতুলেছো ঘাটেঘাটে
নষ্টামেয়ের কারখানা।
নীতিবান মুখোশ ধারী যতো লোক
মঞ্চে উঠে নষ্টামেয়ের বিরুদ্ধে নীতিকথা বলে।
তারাই ঘরে স্ত্রী রেখে নষ্টামেয়ের রুপে নেশায় মাতাল হয়
সর্ব অঙ্গে ঝরতুলো
 ন্যায়নীতি ভুলে রাতের পর রাত।
আমি নষ্টামেয়ে, হা, আমি নষ্টামেয়ে
আমায় নষ্ট করেছে কে?
একবার তাকাও নিজ চরিত্রের
 দিকে
তার পর আমায় নষ্টামেয়ে বলো।
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে
 হে সমাজ আর কতো নষ্টামেয়ের জন্ম দিবে,
তোমাদের কাছে অনুরোধ
 আমার মতো  আর নষ্টামেয়ের জন্ম দিওনা।

            ২০/০৭/১৮



No comments:

Post a Comment