Thursday, October 20, 2016

অনুগল্প ---অন্ধকার


অনুগল্প
--------    
অন্ধকার
 রুহুল আমীন।
----'''---------
মদন একাই বাবার মরা কাঁধে নিয়ে শ্মশান ঘাটে রওনা দিল।ঘুটঘুটে কালো অমাবস্যা রাত।কালীঘাট শ্মাসান নাম শুনলেই গাঁ কেমন ছমছম করে।মদনের কোনদিকে ভ্রুক্ষেপই নেই।আধাকিলো পথের দুইধারে অড়হর গাছগুলো সাপের ফনার মত মাথার উপর ঝুকে পড়েছে।রাস্তায় শানশান নিরবতা।একজোড়া চটি আর বড় বড় নিঃশ্বাসের শব্দ ক্রমশ ভারি হতে লাগলো।মাঝেমধ্যে কেবল মদনের দু'ঠোঁটে অস্পষ্ট হরি নাম।ঘাটে পৌঁছাতে মধ্যরাত।

কাধ হতে মরা নামিয়ে মদন মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।রাজ্যের ক্লান্তি আর বেদনা মদনের শরীর ও মনকে মুচড়ে কাপড় নিংড়ানোর জল হয়ে ঝরছে।বাবার মরা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল।আর ভাবতে লাগলো প্রতিদিন যাদের সাথে তাসের আড্ডায় মাতি তারা কেউ আমার সাথে এলো না !মুখ থেকে অস্পষ্ট বাক্য বের হল,
 -শ্যালা সব শ্যামলীর মত বেইমান ,স্বার্থপর।

হঠাৎ মদনের চোখ পড়ল একটি লাইটের আলো রাস্তার অড়হর সারি ভেদ করে ঘাটের দিকে এগিয়ে আসছে।হয়ত কেউ আমার বিপদের সাথি হতে আসছে ভেবে মদনের মনে কিছুটা স্বস্তি এল।কিন্তু কাছে আসতেই দেখল ,একটি কালো হুলো বিড়াল ।অন্ধকার অমাবস্যা রাতে চোখ দুটি টর্চ লাইটের আলোর মত জ্বলছে।মদন কিছু বুঝে উঠার আগেই বিড়ালটি মদনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
মদন ভয়ে দুনিয়া কাঁপানো চিৎকার দিল।কিন্তু গলা হতে যে স্বর বের হলো তা কেবল মদনেরই কানে বাজলো।সাথে সাথে মদনের জ্ঞান হারিয়ে গেল।কিছু সময় পর যখন মদনের  জ্ঞান ফিরে এলো ,তখন দেখলো বাবা চেলা কাঁঠ হাতে মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।আর নিজের সারা গাঁ-মাথা কাঁদা জলে ভেজা।
মদন বাবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল।বৃদ্ধ মৃনাল দাস দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল , আর কত জ্বালাবি ?
প্রতি রাতে তোর মাথায় জল ঢালতে আমার আর কতদিন বাঁচতে হবে ,আর কত ,আর কত ?
বলতে বলতে বৃদ্ধ মৃনালের গলা জড়িয়ে গেল।
19/10/2016

No comments:

Post a Comment